কবরপূজারি মুশরিকদের ছড়ানো শির্ক ও তাওহিদ বিষয়ক সংশয় নিরসনের লক্ষ্যেই দ্বাদশ হিজরি শতকের সংস্কারক ইমাম, শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আন-নাজদি রহিমাহুল্লাহ রচনা করেন বক্ষ্যমাণ গ্রন্থ। তিনি তাওহিদের দাওয়াত দিতে গিয়ে কিছু ব্যক্তি কর্তৃক উত্থাপিত সংশয়ের সম্মুখীন হন। যেসব সংশয় ছড়িয়ে দিয়ে তারা জনমানুষকে নির্মল তাওহিদের দাওয়াত থেকে বিচ্যুত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল। মহান আল্লাহর তৌফিকে শাইখ রহিমাহুল্লাহ এই বরকতময় গ্রন্থটি রচনা করে তাদের সেসব সংশয়ের অপনোদন করেন। আলহামদুলিল্লাহ।
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম কাশফুশ শুবুহাত। তবে কেউ কেউ একে ‘কাশফু শুবাহিল মুরতাব’, ‘কাশফুশ শুবাহ’, ‘কাশফুশ শুবহাহ’ প্রভৃতি নামেও নামকরণ করেছেন। লেখক রহিমাহুল্লাহ এতে মুশরিকদের ধর্মের সাথে নবী-রসুলের ধর্মের পার্থক্য নিয়ে খুবই প্রামাণ্য আলোচনা করেছেন। এরপর তাওহিদ ও শির্ক বিষয়ে কবরপূজারিদের ছড়ানো প্রায় চোদ্দোটি সংশয়ের জবাব দিয়েছেন। এর গুরুত্ব বিবেচনায় আমাদের উলামাগণ জনমানুষ ও ছাত্রবর্গের কাছে বারবার এই কিতাবের ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছেন বারবার। আমরাও বইটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করায় নিটোল বাংলায় রূপান্তর করতে সচেষ্ট হয়েছি। বাংলা ভাষায় আমরা এর নাম দিয়েছি—‘কুবুরীদের সংশয় নিরসন।’
শাইখুল ইসলাম ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আন-নাজদী
শাইখ আবদুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী
শাইখ আবদুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত, গবেষক এবং দা’ঈ, যিনি সৌদি আরবের মদিনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি মূলত আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা ও সালাফি মানহাজ অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহর বাণী প্রচারের জন্য সুপরিচিত। একজন সফল লেখক হিসেবে তিনি ‘মুখতাসার যাদুল মাআদ’ ‘প্রশ্নোত্তরে চার মাযহাবের আকিদাহ’, ‘জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ৬০ সাহাবী’ এবং ‘কারবালার প্রকৃত ঘটনা’ সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক বই রচনা ও অনুবাদ করেছেন। সমসাময়িক বিভিন্ন ইসলামিক মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা ও লেখনীর মাধ্যমে বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত।
দৃত।
abdullah-mridha
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা বাংলাদেশের একজন পরিচিত ইসলামি লেখক, অনুবাদক ও গবেষক, যিনি মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজ বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে তুলে ধরার জন্য সমাদৃত। তিনি সালাফদের রচিত ধ্রুপদী ইসলামি গ্রন্থগুলো, বিশেষ করে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু বাকর আল-হুমাইদির "উসুলুস সুন্নাহ"-এর মতো বই অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় অনুবাদ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—আকিদার মতো জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে কুরআন, সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তী ইমামদের অকাট্য দলিলের সাহায্যে সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা। বর্তমান সময়ের নানা ধর্মীয় বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে সতর্ক রাখতে এবং বিশুদ্ধ ইসলামি বিশ্বাসের শেকড় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানে তাঁর এই গবেষণামূলক ও অনুবাদমূলক কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী বর্তমানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং নির্ভরযোগ্য প্রকাশনার জগতে একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে ২০১২ সাল থেকে একদল নিষ্ঠাবান দ্বীনপ্রেমী ব্যক্তির নিরলস ত্যাগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আব্দুল ওয়াহীদ বিন ইউনুস-এর সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত কুরআন, হাদীস, সীরাত, আকীদা এবং ইসলামি জীবনদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রামাণ্য গ্রন্থ প্রকাশ ও সংরক্ষণে নিয়োজিত। আমাদের রয়েছে স্বতন্ত্র গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ, যেখানে প্রাচীন ও আধুনিক জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার সমন্বয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আমাদের সমৃদ্ধ বিক্রয় বিভাগে সালাফি মানহাজভিত্তিক সহীহ আকীদা-নির্ভর গ্রন্থাবলি এবং কওমী মাদরাসার সিলেবাসভুক্ত মূল আরবি ইসলামি কিতাবসমূহের এক বিশাল ও নির্ভরযোগ্য সংগ্রহ রয়েছে, যা পাঠকদের জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে এবং জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোকিত করতে নিরন্তর সহায়তা করে যাচ্ছে। বর্তমানে ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী এর ৩ টি অফলাইন শাখা রয়েছে যার প্রধান শাখা রাজশাহীর প্রানকেন্দ্র রানীবাজার ও ২য় শাখা সাহেববাজারে অবস্থিত ও ৩য় শাখা রাজধানী ঢাকা সদরের বইয়ের রাজধানী বাংলাবাজারে অবস্থিত।