একটু পড়ে দেখুন
ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন

ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন

৳ 120
স্টকে আছে

بسم الله الرحمن الرحيم


الحمد لله وحده والصلاة والسـلام على من لا نبيّ بعده وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلي يوم الدين وبعد :


১৯০৯ সালে ইহূদী নেতারা ৩৪তম ওছমানীয় খলীফা ২য় আব্দুল হামীদের (১৮৭৬-১৯০৯ খৃ.) নিকট বহুমূল্য উপঢৌকনের বিনিময়েও যখন ফিলিস্তীন তাদের অধিকারে নিতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের সহায়তায় তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারা পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেওয়া বস্ত্তবাদী মতাদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের বিষবাষ্প ছড়িয়ে তরুণ শ্রেণী ও দুর্বলচেতা বহু লোককে পথভ্রষ্ট করে। সেনাবাহিনীর মধ্যে গ্রুপিং করে। তখন থেকেই খেলাফতের আনুষ্ঠানিক পতন শুরু হয়ে যায়। যার প্রতিবাদে ভারতে মাওলানা শওকত আলী (১৮৭৩-১৯৩৯) ও তার ছোট ভাই মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর (১৮৭৮-১৯৩১)-এর নেতৃত্বে ১৯১৯ সালে ‘খেলাফত আন্দোলন’ (১৯১৯-১৯২৪ খৃ.) গড়ে ওঠে।[1] ঐ সময় এমনকি মি. গান্ধী (১৮৬৯-১৯৪৮) সহ হিন্দু নেতারাও বৃটিশ বিরোধিতার স্বার্থে ‘খেলাফত আন্দোলন’-কে সমর্থন করেন। 


অবশেষে ১৯২৪ সালের ৩রা মার্চ বিশ্বাসঘাতক প্রধান সেনাপতি মুছতফা কামালের হাতে ৩৭তম ও সর্বশেষ খলীফা ২য় আব্দুল মজীদ (১৯২২-১৯২৪)-এর পতনের মাধ্যমে ৬৬২ বছরের ঐতিহ্যবাহী ওছমানীয় খেলাফত (৬৮০-১৩৪২ হি./১২৮১-১৯২৪ খৃ.) বিলুপ্ত হয়। এর ফলে মুসলমানদের রাজনৈতিক ঐক্য শেষ হয়ে যায়।


নিজেদের ঈমানী দুর্বলতা ও পারস্পরিক স্বার্থদ্বন্দ্ব এবং ইহূদী-খৃষ্টানদের চক্রান্তই ছিল খেলাফত বিলুপ্তির কারণ। বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ একই রোগে আক্রান্ত। একই চক্রান্তের শিকার হয়ে তারা আজ ইসলামী খেলাফতের স্বপ্ন ছেড়ে কুফরী রাষ্ট্র কায়েমে জান-মাল উৎসর্গ করছে। ফলে স্লাইস্ড পাউরুটির ন্যায় টুকরা টুকরা হওয়া ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র কার্যতঃ অমুসলিমদের গোলামী করছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব না হ’লেও পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে যদি ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা লাভ করে, তাহ’লে সেটিই হবে বিশ্ব মানবতার জন্য সত্যিকারের আদর্শ রাষ্ট্র। এই স্বপ্ন নিয়েই আগামী দিনের তরুণদেরকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে মানুষের দাসত্ব ছেড়ে আল্লাহর দাসত্বে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আল্লাহ কবুল করলে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশেও সেটি সম্ভব হ’তে পারে।


জানা আবশ্যক যে, ইসলাম যেমন সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। ইসলামী খেলাফত তেমনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিবেদিত। আর এজন্য মুসলিমরাই হবেন অগ্রসৈনিক।    


বাংলাদেশ ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশ। ইসলামের বিধান মতেই এদেশ চলবে এটাই কাম্য। এর কল্যাণ স্পর্শে দেশ নবজীবন লাভ করবে এবং সর্বদা উন্নতি ও অগ্রগতির পথে থাকবে। সেজন্য আমাদের কর্তব্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দৃঢ়চিত্ত আল্লাহভীরু একজন ‘খলীফা’ বা ‘আমীর’ নির্বাচন করা। যিনি আল্লাহর বিধান মতে দেশ পরিচালনা করবেন।


হযরত ইরবায বিন সারিয়াহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আমি তোমাদের অছিয়ত করছি আল্লাহভীরুতার এবং আমীরের আদেশ শ্রবণ ও তাঁর আনুগত্য করার। যদিও তিনি হাবশী গোলাম হন। কেননা আমার পরে তোমরা যারা বেঁচে থাকবে, তারা বহু মতভেদ দেখতে পাবে। সে অবস্থায় তোমাদের কর্তব্য হবে আমার সুন্নাত ও আমার সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণ করা। তোমরা সেগুলি আঁকড়ে ধরবে ও মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে। আর তোমরা অবশ্যই নবোদ্ভূত বস্ত্ত সমূহ হ’তে বিরত থাকবে। কেননা ইসলামে সকল প্রকার নবোদ্ভূত বস্ত্ত বিদ‘আত। আর প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা’। ‘আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম’।[2] একই রাবী কর্তৃক অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আমি তোমাদেরকে স্বচ্ছ দ্বীনের উপর রেখে যাচ্ছি। যার রাত্রি হ’ল দিবসের ন্যায়। আমার পরে যে ব্যক্তি উক্ত দ্বীন থেকে বিচ্যুত হবে, সে ধ্বংস হবে’।[3] উপরোক্ত হাদীছদ্বয়ের আলোকে অত্র বইয়ে ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচনের বিধি-বিধান সমূহ বর্ণিত হয়েছে।


মাসিক আত-তাহরীক মার্চ ২০০০, ৩/৬ সংখ্যায় ‘ইসলামী খেলাফত’ এবং মে ২০০০, ৩/৮ সংখ্যায় ‘নেতৃত্ব নির্বাচন’ শিরোনামে ‘দরসে কুরআন’ কলামে নিবন্ধ দু’টি প্রকাশিত হয়। অতঃপর দু’টি নিবন্ধ একত্রিত করে ‘ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন’ নামে মার্চ ২০০৩-য়ে বই আকারে প্রথম প্রকাশিত হয় (পৃ. ৪৮)। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নানাবিধ কারণে বইটির পুনঃপ্রকাশ দেরী হয়। বর্তমানে বইটির কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। যা পাঠকের জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।


পরিশেষে অত্র বইটি প্রকাশে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা বিভাগের সংশ্লিষ্ট ও সহযোগী সকলকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে দীন লেখকের ও তার মরহূম পিতা-মাতা ও সন্তান-সন্ততিদের জন্য অত্র লেখনী পরকালীন নাজাতের অসীলা হৌক, এই প্রার্থনা করছি- আমীন!

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

(জন্ম: ১৫ জানুয়ারি ১৯৪৮, সাতক্ষীরা

ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও আহলেহাদীছ আন্দোলনের আমীর। তিনি জাতীয় ধর্মীয় সংগঠন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ এবং গবেষণাধর্মী মাসিক ‘আত-তাহরীক’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৬ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি সাতক্ষীরা জেলার বুলারাটি গ্রামের এক সম্মানিত ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন বিখ্যাত আলেম ও সমাজ সংস্কারক মাওলানা আহমাদ আলী এবং মাতা ছিলেন পুণ্যবতী মহিলা বছীরুন্নেসা। ১৯৭৯ সালে তিনি তাহেরুন্নেছার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের চার সন্তান—ডা. তামান্না তাসনীম, ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব, ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব ও হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির।

প্রাথমিক শিক্ষা পিতার তত্ত্বাবধানে শুরু করে ক্রমান্বয়ে কাকডাঙ্গা মাদরাসা ও আরামনগর আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল (মুহাদ্দিছ) পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে ১৯৭৬ সালে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন এবং ১৯৯২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, যেমন—বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ, আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা, তাওহীদ ট্রাস্ট, হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, সালাফিয়া ট্রাস্ট ও ইসলামিক কমপ্লেক্স।

ড. গালিবের রচিত ও অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো আহলেহাদীছ আন্দোলন: উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), সীরাতুর রাসূল (ছাঃ), তাফসীরুল কুরআন ও আক্বীদা ইসলামিয়াহ। তাঁর লেখা ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি ও শিক্ষা সংস্কার বিষয়ে গভীর গবেষণাধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

তিনি আহ্বান জানান—

“আসুন! পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি।”

এভাবেই ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব আধুনিক যুগে বিশুদ্ধ ইসলামী চিন্তা ও সমাজ সংস্কারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।

হাদীস ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ

প্রকাশনীর বিস্তারিত পরিচিতি পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত বইসমূহ

ইলম অন্বেষণে সফর 20%
ছাড়
ইলম অন্বেষণে সফর

মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ

৳ 120 ৳ 96
আহলেহাদীসদের উপর মিথ্যা অপবাদ ও তার জবাব
আহলেহাদীসদের উপর মিথ্যা অপবাদ ও তার জবাব

আখতারুজ্জামান বিন মতিউর রহমান

৳ 80
নাফসের গোলামী ও মুক্তির পথ 30%
ছাড়
নাফসের গোলামী ও মুক্তির পথ

আবু আহমাদ সাইফুদ্দীন বেলাল

৳ 80 ৳ 56
উদাত্ত আহ্বান
উদাত্ত আহ্বান

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

৳ 10
জাতীয়তাবাদ
জাতীয়তাবাদ

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব

৳ 30
কে বড় লাভবান
কে বড় লাভবান

আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ

৳ 160
বুবুনী কোথায় 20%
ছাড়
বুবুনী কোথায়

সানজিদা সিদ্দিকা কথা

৳ 180 ৳ 144
উদাত্ত আহ্বান
উদাত্ত আহ্বান

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

৳ 20
আবার এসেছি ফিরে 30%
ছাড়
আবার এসেছি ফিরে

বারাআ আশ-শামী

৳ 250 ৳ 175
সাহায্য চ্যাট

আসসালামু আলাইকুম! আমি ওয়াহিদীয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরীর সহায়ক। আমি কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?