তাফসীরুল কুরআন (২৯তম পারা) একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তাফসীর বা ব্যাখ্যা। ২৯তম পারা মূলত "তা বারাকা" (Blessed is He) দিয়ে শুরু হয়, যা সূরা মূলক থেকে শুরু করে সূরা নূহ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পারাটি ১১টি সূরার সমন্বয়ে গঠিত এবং এগুলোর সবগুলোই মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্বান এই পারাটির তাফসীর লিখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, হযরত মাওলানা আমিনুল ইসলাম, এবং তাফসীর ইবনে কাসীর।
তাফসীরে গৃহীত নীতিমালা :
(১) প্রথমে সমার্থবোধক কুরআনের অন্যান্য আয়াতসমূহ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অতঃপর (২) ছহীহ হাদীছ দ্বারা। অতঃপর প্রয়োজনে (৩) আছারে ছাহাবা ও তাবেঈনের ব্যাখ্যা দ্বারা, যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। (৪) তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাত অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ে ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে ছালেহীনের বুঝ ও তাঁদের গৃহীত নীতিমালার অনুপুঙ্খ অনুসরণের সাধ্যমত চেষ্টা করা হয়েছে। যে বিষয়ে প্রাচীন ও আধুনিক বহু মুফাসসিরের পদস্খলন ঘটেছে। (৫) মর্মগত ইখতেলাফের ক্ষেত্রে তাফসীরের সর্বস্বীকৃত মূলনীতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং সর্বাগ্রগণ্য ও প্রকাশ্য অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। (৬) তরজমার ক্ষেত্রে সাবলীল ও সহজবোধ্য বাংলায় কুরআনের উদ্দিষ্ট মর্ম সাধ্যমত স্পষ্ট করা হয়েছে। আল্লাহ যেখানে নিজের ক্ষেত্রে ‘আমরা’ বলেছেন, সেখানে ‘আমরা’ অনুবাদ করা হয়েছে। এটি আরবী বাকরীতিতে মর্যাদাবোধক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যেখানে আল্লাহ ‘আমি’ বলেছেন, সেখানে তরজমায় ‘আমি’ লেখা হয়েছে। (৭) ক্ষেত্র বিশেষে আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ তুলে ধরা হয়েছে। (৮) আয়াতের সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক দিকগুলি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (৯) তাফসীরের সর্বত্র অতি যুক্তিবাদী মু‘তাযেলা এবং চরমপন্থী খারেজী ও শৈথিল্যবাদী মুর্জিয়া আক্বীদা সমূহের বিপরীতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত আহলেহাদীছের মধ্যপন্থী আক্বীদা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (১০) বিদ্বানগণের অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং প্রবৃত্তিপরায়ণদের স্বেচ্ছাকৃত ব্যাখ্যাসমূহ থেকে প্রয়োজনীয় স্থানসমূহে পাঠককে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রকাশনীর বিস্তারিত পরিচিতি পাওয়া যায়নি।