একটু পড়ে দেখুন
ইকামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি

ইকামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি

৳ 35
স্টকে আছে

بسم الله الرحمن الرحيم


الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبيّ بعده وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلي يوم الدين وبعد :


‘ইক্বামতে দ্বীন’ অর্থ ইক্বামতে তাওহীদ। অর্থাৎ মুমিনের সার্বিক জীবনে এক আল্লাহর দাসত্ব কায়েম করা। যা দু’ভাবে হয়ে থাকে। ১. আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও বিধি-বিধান সমূহের যথাযথ অনুসরণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে। ২. আল্লাহ বিরোধী সকল প্রকার জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে আপোষহীন থাকার মাধ্যমে। আমর বিল মা‘রূফ ও নাহি ‘আনিল মুনকার তথা ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ যার সার্বক্ষণিক নীতি হিসাবে অনুসৃত হয় (আলে ইমরান ৩/১১০)। যোগ্য আমীরের অধীনে নিবেদিতপ্রাণ একদল কর্মীর জামা‘আতবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে যা সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে (নিসা ৪/৫৯; ছফ ৬১/৪)। এভাবেই আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে মানব জাতির উপরে সাক্ষ্যদাতা ‘মধ্যপন্থী উম্মত’ হিসাবে সম্মানিত করেছেন (বাক্বারাহ ২/১৪৩)।


বিগত সকল নবী এবং শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অনুসৃত উপরোক্ত নীতিই হ’ল দ্বীন কায়েমের সঠিক পদ্ধতি। উক্ত চিরন্তন নীতির বাইরে গিয়ে ইসলামের প্রথম যুগে চরমপন্থী খারেজী ও শী‘আ দল এবং তাদের বিপরীতে শৈথিল্যবাদী মুর্জিয়া দল ভ্রান্ত পথের সূচনা করে। পরবর্তীতে তাদেরই অনুসরণে যুগে যুগে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন দেশে নানাবিধ দল ও উপদল সৃষ্টি হয়েছে। শেষোক্ত দলটি চরম শৈথিল্য দেখিয়ে বৈষয়িক জীবনে প্রবৃত্তি পূজারী হয়েছে এবং ইসলামকে ছেড়ে নানা বিজাতীয় কুফরী মতবাদ কবুল করেছে। অন্যদিকে চরমপন্থী দলটি দ্রুত ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে দ্বীন কায়েমের স্বপ্ন দেখেছে এবং সেটাকেই ‘বড় ইবাদত’ মনে করেছে। বর্তমানে যার প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী দেখা যাচ্ছে। এটি পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার কারণে হ’তে পারে। অথবা ‘ইক্বামতে দ্বীন’ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও স্বচ্ছ ধারণার অভাবের কারণে হ’তে পারে।


ইসলামের প্রথম শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকেই উপরোক্ত দুই পরস্পর বিরোধী নীতির বাইরে সর্বদা মধ্যপন্থী নীতির অনুসরণ করে এসেছেন ‘আহলুল হাদীছ’ বিদ্বানগণ। তাঁরা মুসলিম উম্মাহকে সকল প্রকার ভ্রান্ত পথ ছেড়ে বিশুদ্ধ ইসলামের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এদেশে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ এবং তার অঙ্গ সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সমূহ একই উদ্দেশ্যে নিবেদিত। তাঁরা উক্ত লক্ষ্যে জামা‘আতবদ্ধভাবে সমাজ সংস্কারের গুরু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।


আলোচ্য ‘ইক্বামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি’ বইটি মূলতঃ দু’টি নিবন্ধের সমষ্টি। প্রথমটি এদেশে জঙ্গীবাদ মাথা চাড়া দেওয়ার শুরুতে মাসিক ‘আত-তাহরীক’ ১৯৯৮ সালের (২/২) নভেম্বর সংখ্যায় এবং দ্বিতীয়টি ২০০৩ সালের (৬/১০) জুলাই সংখ্যায় ‘দরসে কুরআন’ কলামে প্রকাশিত হয়। অতঃপর ২০০৪ সালের মার্চ মাসে দু’টি দরস মিলিতভাবে একটি বই আকারে ১ম সংস্করণ বের হয়। বর্তমান ২য় সংস্করণে যাতে খুব সামান্যই সংশোধনী এসেছে।


সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে এই বইটিই দেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মানুষের আক্বীদা ও আমলে ইসলামের সঠিক রূপ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত ব্যালট ও বুলেট কোন পদ্ধতিতেই সমাজে প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। এ বইয়ের মাধ্যমে বহু পথহারা মানুষ ইসলামের সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাবে ইনশাআল্লাহ।


পরিশেষে আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। অতঃপর তাঁর শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও ছাহাবীগণের প্রতি রইল অসংখ্য দরূদ ও সালাম।

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

(জন্ম: ১৫ জানুয়ারি ১৯৪৮, সাতক্ষীরা

ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও আহলেহাদীছ আন্দোলনের আমীর। তিনি জাতীয় ধর্মীয় সংগঠন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ এবং গবেষণাধর্মী মাসিক ‘আত-তাহরীক’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৬ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি সাতক্ষীরা জেলার বুলারাটি গ্রামের এক সম্মানিত ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন বিখ্যাত আলেম ও সমাজ সংস্কারক মাওলানা আহমাদ আলী এবং মাতা ছিলেন পুণ্যবতী মহিলা বছীরুন্নেসা। ১৯৭৯ সালে তিনি তাহেরুন্নেছার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের চার সন্তান—ডা. তামান্না তাসনীম, ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব, ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব ও হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির।

প্রাথমিক শিক্ষা পিতার তত্ত্বাবধানে শুরু করে ক্রমান্বয়ে কাকডাঙ্গা মাদরাসা ও আরামনগর আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল (মুহাদ্দিছ) পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে ১৯৭৬ সালে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন এবং ১৯৯২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, যেমন—বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ, আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা, তাওহীদ ট্রাস্ট, হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, সালাফিয়া ট্রাস্ট ও ইসলামিক কমপ্লেক্স।

ড. গালিবের রচিত ও অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো আহলেহাদীছ আন্দোলন: উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), সীরাতুর রাসূল (ছাঃ), তাফসীরুল কুরআন ও আক্বীদা ইসলামিয়াহ। তাঁর লেখা ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি ও শিক্ষা সংস্কার বিষয়ে গভীর গবেষণাধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

তিনি আহ্বান জানান—

“আসুন! পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি।”

এভাবেই ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব আধুনিক যুগে বিশুদ্ধ ইসলামী চিন্তা ও সমাজ সংস্কারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।

হাদীস ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ

প্রকাশনীর বিস্তারিত পরিচিতি পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত বইসমূহ

ইলম অন্বেষণে সফর 20%
ছাড়
ইলম অন্বেষণে সফর

মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ

৳ 120 ৳ 96
আহলেহাদীসদের উপর মিথ্যা অপবাদ ও তার জবাব
আহলেহাদীসদের উপর মিথ্যা অপবাদ ও তার জবাব

আখতারুজ্জামান বিন মতিউর রহমান

৳ 80
নাফসের গোলামী ও মুক্তির পথ 30%
ছাড়
নাফসের গোলামী ও মুক্তির পথ

আবু আহমাদ সাইফুদ্দীন বেলাল

৳ 80 ৳ 56
উদাত্ত আহ্বান
উদাত্ত আহ্বান

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

৳ 10
জাতীয়তাবাদ
জাতীয়তাবাদ

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব

৳ 30
কে বড় লাভবান
কে বড় লাভবান

আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ

৳ 160
বুবুনী কোথায় 20%
ছাড়
বুবুনী কোথায়

সানজিদা সিদ্দিকা কথা

৳ 180 ৳ 144
উদাত্ত আহ্বান
উদাত্ত আহ্বান

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

৳ 20
আবার এসেছি ফিরে 30%
ছাড়
আবার এসেছি ফিরে

বারাআ আশ-শামী

৳ 250 ৳ 175
সাহায্য চ্যাট

আসসালামু আলাইকুম! আমি ওয়াহিদীয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরীর সহায়ক। আমি কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?