বইয়ের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি।
শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহ
সালফে সালেহীনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি, মুহাদ্দিস, ফকীহ, দাঈ, ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহ এর সাথে পরিচিত হই। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহ আধুনিক যুগে মুসলিম জাহানের একজন স্বনামধন্য আলেম। আধুনিক বিশ্বে শাইখ আলবানীকে ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ইলমুল জারহে ওয়াত তাদীলের[1] ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র প্রতিভাধারী আলেম হিসেবে গণ্য করা হয়। ইলমে মুস্তালাহুল হাদীসের[2] ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বক্তিত্ব। মুহাদ্দিসগণ বলেছেন: “তিনি যেন ইবনে হাজার আসকালানী, হাফেয ইবনে কাসীর প্রমুখ ইলমুল জারহে ওয়াত তাদীলের আলেমদের যুগকে আবার ফিরিয়ে এনেছিলেন।
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস (হাদিস বিশারদ) ও ইসলামী গবেষক আল্লামা মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ.)-এর বর্ণাঢ্য জীবনের মূল অংশগুলো নিচে দেওয়া হলো
- জন্ম ও হিজরত: তিনি ১৯১৪ সালে ইউরোপের আলবেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। আলবেনিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষ শাসন ও পর্দাপ্রথা নিষিদ্ধ হলে তাঁর পিতা সপরিবারে সিরিয়ার দামেস্কে হিজরত করেন।
- শিক্ষাজীবন ও পেশা: প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার বদলে তিনি তাঁর আলেম পিতার কাছেই কুরআন, তাজবীদ ও হানাফী ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। পাশাপাশি দামেস্কের অন্যান্য আলেমদের দরসেও অংশ নিতেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ঘড়ি মেরামতের পেশা বেছে নেন, যা তাঁকে স্বাধীনভাবে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সময় এনে দেয়।
- হাদিস গবেষণা: মাত্র ২০ বছর বয়সে 'আল মানার' পত্রিকার একটি প্রবন্ধ পড়ে তিনি হাদিস গবেষণায় প্রবলভাবে আকৃষ্ট হন। তাঁর অসাধারণ পান্ডিত্যের কারণে দামেস্কের বিখ্যাত 'জাহেরিয়া লাইব্রেরী' কর্তৃপক্ষ তাঁর গবেষণার জন্য একটি বিশেষ কক্ষ ও চাবি বরাদ্দ করেছিল।
- দাওয়াত ও কারাবরণ: কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আদর্শের দিকে দাওয়াত দিতে গিয়ে তিনি সমসাময়িক কিছু আলেম ও বিদআতীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন। রাজনৈতিক কারণে সিরিয়া সরকার তাঁকে দু'বার কারাবন্দী করে। পরবর্তীতে তিনি সিরিয়া ছেড়ে জর্দানের আম্মানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
- অসামান্য অবদান: সারাজীবনে তিনি শতাধিক অমূল্য গ্রন্থ রচনা ও তাহকিক (গবেষণা) করেছেন। এর মধ্যে 'সিলসিলাতুল আহাদিসিস সাহীহাহ', 'সিলসিলাতুল আহাদিসিয যয়ীফাহ', এবং 'সিফাতু সালাতিন নাবী (সা.)' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইলমে হাদিসের অনন্য খেদমতের জন্য ১৯৯৯ সালে তাঁকে 'আন্তর্জাতিক বাদশাহ ফায়সাল পুরস্কার' প্রদান করা হয়।আলেমদের মূল্যায়ন: শাইখ বিন বায (রহ.) এবং শাইখ উসাইমীন (রহ.)-এর মতো সমসাময়িক শীর্ষ আলেমরা তাঁকে এ যুগের 'মুজাদ্দিদ' (সংস্কারক) এবং শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- অন্তিম ওসিয়ত ও মৃত্যু: তিনি তাঁর সারা জীবনের সংগৃহীত বিশাল ব্যক্তিগত লাইব্রেরীটি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াকফ করে যান। সহজ ও দ্রুত দাফনের ওসিয়ত করে ১৯৯৯ সালের ২ অক্টোবর জর্দানে তিনি ইন্তেকাল করেন।
প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও নিরলস সাধনার মাধ্যমে একজন সাধারণ ঘড়ির কারিগর থেকে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসে পরিণত হওয়ার এই ইতিহাস যেকোনো জ্ঞানপিপাসুর জন্যই এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
তাওহীদ পাবলিকেশন্স ১৯৭৭ সাল থেকে বিশুদ্ধ আক্বীদা, কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে নির্ভরযোগ্য ইসলামী বই প্রকাশ করে আসছে।
সফর ও লক্ষ্য সম্পর্কে-
‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’ একটি নাম। বাংলা ভাষায় বিশুদ্ধ ইসলামী গ্রন্থ প্রকাশনা জগতের একটি ইতিহাস। বিশুদ্ধ ইসলামী সাহিত্য প্রকাশের চেতনায় ঋগ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। কুরআন,সহীহ হাদীস ও সালফে – সালেহীনদের নীতি/আদর্শ অনুযায়ী বিশুদ্ধ আক্বীদা- বিশ্বাসের ভিত্তিতে মূল্যবান ইসলামী গ্রন্থসমূহ বাংলা ভাষায় প্রকাশে অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’। ১৯৮১ সালে গবেষণা গ্রন্থ ‘কিতাবুত তাওহীদ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলার অপার অনুগ্রহে একে একে পার করল দীর্ঘ ৩০টি বছর। যাত্রা শুরুর পর থেকে অদ্যাবধি প্রতিষ্ঠানটি পাঠকের প্রগাঢ় আস্থা ও ভালবাসা অর্জনে সম্মুখপানে এগিয়ে চলেছে। প্রকাশনার প্রায় তিন যুগ সুনামের সাথে অবস্থান এবং একের পর এক বই প্রকাশ করে দেড় শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশ করেছে ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’। বাংলাদেশে বিশুদ্ধ ইসলামী গ্রন্থ প্রকাশনার জগতে এটি এখন দেশের শীর্ষস্থানীয় নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে, আলহামদযদিও ১৯৭৭ সালে প্রথম অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত ’প্রগতির স্রোতে ভাসমান নারী’ ও ‘ইসলামী বাল্য শিক্ষা’ দুটি প্রকাশের মাধ্যমেই মূলত তাওহীদ প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স এর যাত্রা শুরু হয়। তন্মধ্যে ইসলামী বাল্য শিক্ষা বইটি বিশেষভাবে সর্বমহলে সমাদৃত হয়। এমনকি লন্ডনের একটি কিন্ডারগার্টেনে এ বইটি পাঠ্যতালিকায় ঠাঁই নেয়। এরপর বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৮১ সালে প্রিন্টিং মেশিন সহ পূর্ণাঙ্গ প্রেস ও পাবলিকেশন্স এর কাজ নতুন ভাবে শুরু হয়। তখন থেকেই বই প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতা ও প্রমাণপঞ্জির প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। ফলে আজ সর্বমহলে বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে তাওহীদ পাবলিকেশন্স। আলহামদুলিল্লাহ। এ সাফল্যের পেছনে আল্লাহর বিশেষ রহমত। এছাড়া যাঁর অক্লান্ত শ্রম ও মেধায় আজকের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির উচ্চশিখরে আরোহন তিনি হলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি অদ্যাবধি তাঁর গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর কলমের রোশনাই এখনও রোশনী ছড়িয়ে চলেছে। পাঠকবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীদের নিকট এ আলোকিত মানুষটির সুস্বাস্থ্য ও হায়াতে ত্বাইয়্যেবার জন্য দুআর আবেদন রইল। আল্লাহ তাআলা ইহ ও পরকালে তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে এ খেদমতের উত্তম জাযা দান গ্রন্থ প্রকাশনায় বিশুদ্ধতা ও গুণগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে সজাগদৃষ্টি সমুন্নত রেখে কাজ করে চলেছে ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’। বিষয়ের বৈচিত্র্য ও অভিনবত্ব এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে। পরিকল্পিতভাবে গ্রন্থ প্রকাশের তাগিদ থেকে ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’ সকল শ্রেণীর পাঠকদের গ্রন্থ সম্পদ বৃদ্ধি করতেও বিশেষভাবে সচেষ্ট রয়েছে। ইতোমধ্যে ইসলামের মৌলিক, গবেষণা, ইসলামী অর্থনীতি, ইসলামী উপন্যাস ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও অনুবাদ সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বই প্রকাশ করে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করইসলাম চর্চায় বিশুদ্ধতার চেতনাকে শাণিত করে যে গ্রন্থ, তা প্রকাশে অধিক উৎসাহী এ প্রতিষ্ঠান। স্বকীয় সৌকর্যে ও বিপুল বৈভবে যাতে বাঙালি মুসলিম পাঠক নির্মিত হয় তার প্রচেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে প্রতিষ্ঠইসলামী সাহিত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সালফে-সালেহীন তথা সৎকর্মশীল পূর্বসূরীগণের (অর্থাৎ সাহাবী, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈগণের) নীতিমালা অনুযায়ী গ্রন্থ প্রকাশই ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’-এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যের বিচারে প্রতিষ্ঠানটি অনন্য। প্রথম থেকেই বরেণ্য সব ইসলামী গবেষকদের বই প্রকাশ করে আসছে। সৃজনশীল ও বিশুদ্ধ ইসলামী প্রকাশনার ধারা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’ মনে করে, ইসলামী প্রকাশনা মানে বিশুদ্ধ ইসলামী সাহিত্যের কিছু কাজ হাতে নেয়া। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। বিষয় বৈচিত্রে সমৃদ্ধ এবং প্রখ্যাত প্রতিথযশা এবং প্রতিশ্রুতিশীল আলেমগণের এক অপূর্ব সমারোহে ঋদ্ধ এই প্রতিষ্ঠান।আমরা রচনার গুনাগুণ ও বিষয়ের বিশুদ্ধতায় বিশ্বাস করি। কুরআন, কুরআনের বিশুদ্ধ তাফসীর, হাদীস গ্রন্থ, ইসলামী আরকান ও ইসলামী বিধি-বিধানসহ নানা বিষয়ে এদেশের সৃজনশীল বিশুদ্ধ ইসলামী সাহিত্যে বিশেষ ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার নিয়েই আমাদের পথচলা সামনের দিকে। সালফে-সালেহীনদের প্রদর্শিত আদর্শের ভিত্তিতে ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’ যাবতীয় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে বুদ্ধির মুক্তি এবং শুভবুদ্ধির বিকাশ কামনা করে। ইসলাম অনুসরণের ক্ষেত্রে চিন্তাজগতের অন্ধত্ব, গোঁড়ামী মোচনে বহুমাত্রিক বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ প্রকাশনার মাধ্যমে বিশুদ্ধ ইসলামী সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে এই পাবলিকেশন্স সচেষ্ট। তাদের পরিকল্পনা ও প্রয়াস আরও বিকশিত পর্যায়ে এগিয়ে নিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মূলত, প্রকাশনা শিল্পের মাধ্যমে কালজয়ী সাংস্কৃতিক রূপান্তর সাধন করতে চায় ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’। এই মহতি উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’ সবার সহযোগিতা কাশুধু সংখ্যাগত ব্যাপকতার দিক থেকেই নয়, গুণগত বৈশিষ্ট্যেও ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’- এর বই পাঠকের কাছে অনন্য বিবেচিত হয় বলে ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’ বিশ্বাস করে। ‘তাওহীদ পাবলিকেশন্স’ সর্বদাই গ্রন্থ ও লেখক বাছাই করে গ্রন্থ প্রকাশ করে।