20% ছাড়
পরিচিতির জন্য প্রত্যেক বস্তুরই কোন না কোন নাম থাকে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তার পরিচিতির জন্যও নাম রাখা বিধেয়। জন্মদিনে বা আক্বীক্বার (সপ্তম) দিনেও নাম রাখা যায়। নাম রাখার জন্য অনুষ্ঠান আক্বীক্বা নয়। কেবল নামকরণের জন্য কোন অনুষ্ঠান ইসলামে নেই। শিশুর (ছেলের) জন্য সবচেয়ে উত্তম ও প্রিয় নাম আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান এবং সেই নাম, যে নাম আল্লাহর নামের পূর্বে আব্দ, উবাইদ বা গোলাম (সম্বন্ধ) জুড়ে অথবা শেষে বশ জুড়ে রাখা হয়। যেমন, আব্দুর রহীম, উবাইদুল হক, গোলাম কাদের, করীম বশ ইত্যাদি। অতঃপর আম্বিয়াগণের নাম, সাহাবাগণের নাম বেছে নিয়ে নাম রাখা উত্তম। কন্যা শিশুর ক্ষেত্রে মহিলা সাহাবীদের নাম বেছে নিয়ে নাম রাখা উত্তম। অতঃপর সেই নাম রাখা উত্তম, যেই নামের অর্থ সুন্দর ও শুভ। নামের সাথে ধর্মের পরিচিতির জন্য নাম রাখাতে বিধর্মীদের অনুকরণ বৈধ নয়। যেহেতু ইসলাম ধর্মের মূল ভাষা আরবী। তাই ঐ ভাষাতেই অধিক নাম রাখা হয়। অতঃপর ফারসী ভাষাতেও নাম রাখা হয়। অন্যান্য ভাষাতেও নাম রাখা যায়। তবে অন্যান্য ধর্মের অনুকরণ করে বিজাতির সাথে একাকার হওয়ার আশংকায় তা উচিত নয়।
যে নাম আল্লার নয় (সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়) সে নামের পূর্বে আব্দ বা উবাইদ বা গোলাম অথবা শেষে বঙ্গ যোগ করে নাম রাখা শিরকের পর্যায়ভুক্ত অথবা অবৈধ। যেমন আব্দুস সুবহান, আব্দুস সাত্তার, গোলাম রাসূল, গোলাম নবী, গোলাম মোস্তফা, গোলাম মতুযা, গোলাম কিবরিয়া, গোলাম পীর, রসূল বঙ্গ, পীর বখশ ইত্যাদি। কারণ, আব্দ, উবাইদ ও (ফার্সীতে) গোলাম মানে দাস বা বান্দা। আর মানুষ আল্লাহ্ ব্যতীত কোন সৃষ্টির দাস, বান্দা বা গোলাম হতে পারেনা। বখশ শব্দের অর্থ দান। সুতরাং পীর বখশ মানে পীরের দান। অথচ সন্তান দাতা একমাত্র সেই মহান আল্লাহ। তাই অন্য কারো প্রতি সেই দানের সম্পর্ক জুড়ালে শিক্ক হয়। আরবী ভাষায় গোলাম শব্দের অর্থ হল কিশোর। অতঃএব ওর পরের শব্দকে সম্বন্ধবাচক না ধরে গুণবাচক ধরলে গোলাম মোস্তফা, গোলাম মুর্তাযা, (অর্থাৎ, নির্বাচিত কিশোর, মনোনীত কিশোর) অনুরূপ নাম রাখা দূষনীয় নয়।
আবার এমন নামও বৈধ নয় যার অর্থ আল্লাহর সমকক্ষতা বুঝায়। যেমন শাহানশাহ, (রাজাধিরাজ), শাহ আলম (পৃথিবীরাজ) ইত্যাদি। তদনুরূপ এমন নাম রাখাও উচিত নয়, যার অর্থ মন্দ, অশুভ, আত্মপ্রশংসামূলক, ও অহমব্যঞ্জক। যেমন হাযান (দুচিন্তা), মুতী (বাধ্য), মুহসিন, মুখলিস (বিশুদ্ধচিত্ত) প্রভৃতি। আদর করে শিশুর উপনাম রাখতে গিয়ে অপনাম রাখা উচিত নয়, যে নামে অধিক পরিচিত হয়ে শিশু বড় হয়ে লজ্জা পায়। যেমন হাদা, খাদা, বিন্টু, পিন্টু, চান্দু, মন্টু, পল্টু, বল্টু, লালু, ভুলু, টুলু, পলু ইত্যাদি। অনুরূপভাবে কারো নাম বিকৃতি ও বিশ্রী করে ডাকা বৈধ নয়। আল্লাহ্ তা'য়ালা বলেন-
"হে ঈমানদারগণ! কোন পুরুষ যেন অপর পুরুষকে উপহাস না করে, কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারীও অপর নারীকে যেন উপহাস না করে, কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না, ঈমান আনার পর কাউকে মন্দ নামে (মন্দ খেতাব দিয়ে) ডাকা গর্হিত কাজ। যারা এ ধরনের আচরণ হতে নিবৃত্ত না হয়, তারাই সীমালংঘনকারী।" (সূরা হুজুরাত:১১)
তবে কাউকে আদরের সাথে তার নামকে সংক্ষেপ করে ডাকা দূষণীয় নয়। যেমন হাসানকে হাসু, মারয়্যামকে মারু ইত্যাদি। কারো নাম মন্দ রাখা হয়ে থাকলে তা পরিবর্তন করা জরুরী। আর তাতে কোন আকীকার দরকার হয় না। কোন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে গিয়ে তার ছেলের নাম ধরে বলা হয় সালমানের আব্বা বাড়িতে আছে? তবে ঐ ছেলের নাম ধরে যদি উপনামে ডাকা হয়, তাহলে বড় সুন্দর লাগে। যেমন, আবু সালমান বাড়িতে আছে? তবে এই উপনাম রাখতে হবে বড় ছেলের নাম ধরে।
প্রকাশনীর বিস্তারিত পরিচিতি পাওয়া যায়নি।