বর্তমান ফিতনার এই নিদারুণ যুগে ঘোরগ্রস্ত পৃথিবীকে পেছনে ফেলে আত্মাকে শুদ্ধ করার এবং ঈমানকে পুনরুজ্জীবিত করার এক অনন্য আত্মিক উপহার এই রচনা। এতে সংকলিত চল্লিশটি হৃদয়গ্রাহী মজলিস যেন পাঠকের অন্তরের এক একটি পবিত্র ঝংকার, যা ঘুমন্ত আত্মাকে পরম মমতায় নাড়া দিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্য ও নৈকট্য অর্জনে ব্যাকুল করে তোলে। ঈমান ও সৎকর্মের চিরন্তন বন্ধনকে সুদৃঢ় করার মাধ্যমে এই ভালোবাসার উপহারটি মুমিনের হৃদয়কে জান্নাতের অনন্ত ও পরম সুন্দর সফরের দিকে পথ দেখাবে।
শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল হুজায়ফী
শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল হুজায়ফী (জন্ম: ১৯৪৭) বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কারী এবং মদিনার মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব, যিনি তাঁর গম্ভীর, ধীর ও সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াতের জন্য বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং সমাদৃত। সৌদি আরবের আরদিয়া অঞ্চলে একটি ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এই প্রখ্যাত আলেম রিয়াদের শরিয়াহ ফ্যাকাল্টি এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং কর্মজীবনে মসজিদে কুবাতে ইমামতি করার পর ১৯৭৯ সালে মসজিদে নববীতে স্থায়ী ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পবিত্র হারামাইনের খিদমতে নিয়োজিত থাকা এই মহান ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট উচ্চারণে কুরআন তেলাওয়াত করেন, যা বিশ্বব্যাপী হিফজ শিক্ষার্থী ও সাধারণ শ্রোতাদের কাছে অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে গণ্য হয়।
ড. যায়নুল আবেদীন বিন নুমান মাদানী
চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর থানার চর আলাতুলীর কোদালকাটি গ্রামে ১৯৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা নোমান আলী মেম্বার ও মাতা শামসুন নাহার (আল্লাহ তাঁদের মাফ করুন)। তিনি আট ভাই-বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
প্রাথমিক আরবি শিক্ষা গ্রামের মক্তবে শুরু হয়। ২০০১ সালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জে চলে আসেন এবং বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াশোনা শেষে ২০১১ সালে দাওরায়ে হাদীসে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সমান্তরালে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং বৃত্তি পান।
২০১১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০১৫ সালে অনার্সে তৃতীয় স্থান এবং ২০১৬ সালে মাস্টার্সে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে এম.ফিল সম্পন্ন করে ২০২২ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতুল হাদীস বিভাগে অধ্যয়নরত।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ২০১৪ সালে মাদরাসা ইশাআতুল ইসলাম আস-সালাফিয়্যাহতে শিক্ষকতা শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই জুমুআ খুতবা ও দাওয়াহ কাজে যুক্ত। তিনি ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরি, রাজশাহীর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং একাধিক গ্রন্থ সংকলন, অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন।
ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী বর্তমানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং নির্ভরযোগ্য প্রকাশনার জগতে একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে ২০১২ সাল থেকে একদল নিষ্ঠাবান দ্বীনপ্রেমী ব্যক্তির নিরলস ত্যাগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আব্দুল ওয়াহীদ বিন ইউনুস-এর সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত কুরআন, হাদীস, সীরাত, আকীদা এবং ইসলামি জীবনদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রামাণ্য গ্রন্থ প্রকাশ ও সংরক্ষণে নিয়োজিত। আমাদের রয়েছে স্বতন্ত্র গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ, যেখানে প্রাচীন ও আধুনিক জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার সমন্বয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আমাদের সমৃদ্ধ বিক্রয় বিভাগে সালাফি মানহাজভিত্তিক সহীহ আকীদা-নির্ভর গ্রন্থাবলি এবং কওমী মাদরাসার সিলেবাসভুক্ত মূল আরবি ইসলামি কিতাবসমূহের এক বিশাল ও নির্ভরযোগ্য সংগ্রহ রয়েছে, যা পাঠকদের জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে এবং জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোকিত করতে নিরন্তর সহায়তা করে যাচ্ছে। বর্তমানে ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী এর ৩ টি অফলাইন শাখা রয়েছে যার প্রধান শাখা রাজশাহীর প্রানকেন্দ্র রানীবাজার ও ২য় শাখা সাহেববাজারে অবস্থিত ও ৩য় শাখা রাজধানী ঢাকা সদরের বইয়ের রাজধানী বাংলাবাজারে অবস্থিত।