এই বইটি থেকে কবুল বা মাবরুর হজ্জের প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ইখলাস বা খাঁটি নিয়ত: হজ্জের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। লোক দেখানো বা নামের প্রতিপত্তির আকাঙ্ক্ষা থাকলে হজ্জ কবুল হবে না।
২. হালাল উপার্জন: হজ্জের যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ হালাল পথে উপার্জিত অর্থ থেকে হতে হবে। হারাম টাকায় হজ্জ করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
৩. গুনাহ ও ঝগড়া-বিবাদ বর্জন: হজ্জ চলাকালীন সময়ে সব ধরণের অশ্লীল কথা, পাপাচার এবং ঝগড়া-বিবাদ থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে।
৪. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ: হজ্জের প্রতিটি রোকন ও আমল নবী করীম (সা.) যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই আদায় করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সহীহ আকিদা ও সুন্নাহ বিরোধী আমল হজ্জকে নষ্ট করে দেয়।
৫. হজ্জের পরবর্তী জীবনে পরিবর্তন: কবুল হজ্জের একটি বড় লক্ষণ হলো, হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর ব্যক্তির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি পূর্বের তুলনায় বেশি ইবাদতমুখী হবেন এবং পাপ কাজ থেকে দূরে থাকবেন।
শায়খ ড. আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল মুহসিন আল বদর
আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বদর। তিনি সৌদি আরবের জুলফি প্রদেশে ২২ জিলক্বদ ১৩৮২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক এবং তিনি মাসজিদে নববীতে নিয়মিত দারস প্রদান করে থাকেন। তিনি আক্বীদাহ বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।
তাঁর পিতৃ পরিচয়: আব্দুর রাযযাক আল-বদর সৌদি আরবের মদীনার বিখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ রহিমাহুল্লাহ এর সন্তান। তাঁর পিতা ১৩৫৩ হিজরিতে রিয়াদের জুলফিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘ইমাম মুহাম্মাদ বিন সঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। অতঃপর তিনি ১৩৮১ সালে ‘মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে’ শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি মাসজিদে নববীতে ১৪০৬ সালে প্রথম দারস দেওয়া শুরু করেন এবং ধারাবাহিকভাবে কুতুবুস সিত্তাহ এর দারস শেষ করেছেন। এভাবে আলফিয়া সুয়ূতী, মুকাদ্দামা ইবনে আবী যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী ও বুলুগুল মারাম ইত্যাদির দারস দিয়ে থাকেন। তিনি প্রায় বিশ এর উর্দ্ধে বই লিখেছেন। আল্লাহ তা‘আলা শায়খকে উত্তম জাযা দান করুন ও সুস্থ রাখুন। আমীন।
তাঁর শিক্ষকমণ্ডলী: তিনি যে সকল শিক্ষকগণের নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করেন। তাদের উল্লেখযোগ্য:
১. তাঁর পিতা শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ হাফিযাহুল্লাহ
২. আল্লামা শায়খ বিন বায রহিমাহুল্লাহ
৩. আল্লামা শায়খ ইবনে উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ
৪. আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহ
৫. শায়খ আলী নাসির ফাক্বীহি হাফিযাহুল্লাহ
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা বাংলাদেশের একজন পরিচিত ইসলামি লেখক, অনুবাদক ও গবেষক, যিনি মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজ বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে তুলে ধরার জন্য সমাদৃত। তিনি সালাফদের রচিত ধ্রুপদী ইসলামি গ্রন্থগুলো, বিশেষ করে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু বাকর আল-হুমাইদির "উসুলুস সুন্নাহ"-এর মতো বই অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় অনুবাদ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—আকিদার মতো জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে কুরআন, সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তী ইমামদের অকাট্য দলিলের সাহায্যে সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা। বর্তমান সময়ের নানা ধর্মীয় বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে সতর্ক রাখতে এবং বিশুদ্ধ ইসলামি বিশ্বাসের শেকড় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানে তাঁর এই গবেষণামূলক ও অনুবাদমূলক কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী বর্তমানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং নির্ভরযোগ্য প্রকাশনার জগতে একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে ২০১২ সাল থেকে একদল নিষ্ঠাবান দ্বীনপ্রেমী ব্যক্তির নিরলস ত্যাগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আব্দুল ওয়াহীদ বিন ইউনুস-এর সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত কুরআন, হাদীস, সীরাত, আকীদা এবং ইসলামি জীবনদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রামাণ্য গ্রন্থ প্রকাশ ও সংরক্ষণে নিয়োজিত। আমাদের রয়েছে স্বতন্ত্র গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ, যেখানে প্রাচীন ও আধুনিক জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার সমন্বয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আমাদের সমৃদ্ধ বিক্রয় বিভাগে সালাফি মানহাজভিত্তিক সহীহ আকীদা-নির্ভর গ্রন্থাবলি এবং কওমী মাদরাসার সিলেবাসভুক্ত মূল আরবি ইসলামি কিতাবসমূহের এক বিশাল ও নির্ভরযোগ্য সংগ্রহ রয়েছে, যা পাঠকদের জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে এবং জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোকিত করতে নিরন্তর সহায়তা করে যাচ্ছে। বর্তমানে ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী এর ৩ টি অফলাইন শাখা রয়েছে যার প্রধান শাখা রাজশাহীর প্রানকেন্দ্র রানীবাজার ও ২য় শাখা সাহেববাজারে অবস্থিত ও ৩য় শাখা রাজধানী ঢাকা সদরের বইয়ের রাজধানী বাংলাবাজারে অবস্থিত।