সালাত কোনো সাধারণ আয়োজন বা আনুষ্ঠানিকতা নয় যে, দিনের মধ্যে এক বা একাধিক ঘণ্টা তাতে ব্যয় করে দিলেই দায় সেরে গেল। সালাতের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা। বিগলিত অন্তরে সিজদায় লুটিয়ে পড়া।
একটু ভেবে দেখুন তো, ক্ষুদ্র এই জীবনে সালাত নামক রণাঙ্গনে কতশত বার আপনাকে পরাস্ত করেছে বিতাড়িত শয়তান? কতবার সে সালাত থেকে আপনার মনোযোগ সরিয়ে দিগ্বিদিক নিয়ে গেছে? আর নিজের সঙ্গীসাথিদের কাছে নিজের বিজয়ের গল্প শুনিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছে! কখনো কি নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করেছেন—
কতবার সালাত শেষ হয়ে গিয়েছে, অথচ (মন কোথায় ছিল তা) আপনি টেরই পাননি?
কতবার সালাতে মনোযোগ না থাকাকে আপনি হালকা ভেবে উড়িয়ে দিয়েছেন?
কতবার এমন হয়েছে যে, সালাত আদায় করাটা খুব কঠিন আর ক্লান্তিকর মনে হয়েছে?
কতবার আপনি গাফলতির সাথে সালাতে দাঁড়িয়েছেন, আর রাজ্যের আলস্য আর উদাসীনতা দিয়ে নিজেই শয়তানকে স্বাগত জানিয়েছেন?
সালাত ছিল রাসূল সা.-এর চক্ষুর শীতলতা। আপনি কি কখনো সেই স্বাদ আস্বাদন করেছেন? আপনি কি সালাতের হাজার বছর পুরোনো সেই স্বাদ ফিরে পেতে চান, যার মূর্ছনায় হারিয়ে যেতেন আমাদের সালাফগণ?
ইন শা আল্লাহ, ‘মনের মতো সালাত’ বইখানি আপনাকে সাহায্য করবে সেই স্বাদ ফিরে পেতে। আপনাকে সাহায্য করবে সালাতে উদাসীনতার চক্রব্যূহ থেকে বের হয়ে আসতে।
লেখকের বিস্তারিত পরিচিতি পাওয়া যায়নি।
সন্দীপন প্রকাশন লিমিটেড
মক্কার কাফিররা চক্রান্ত করেছিল। কাউকে নবিজির কাছে আসতে দিত না, তাঁর কথা কাউকে শুনতে দিত না, তাঁর নামে প্রোপাগান্ডা ছড়াত। জাদুকর, পাগল, জিনে ধরা, আরও বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে মানুষকে তাঁর কাছে ভিড়তে দিত না। কিন্তু এগুলোই তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে ধরা দিত। কাফিরদের এসব প্রোপাগান্ডা শুনে কিছু মানুষ নবিজির কথা শোনার জন্য উলটো আগ্রহী হয়ে উঠত। আর নবিজির মুখ থেকে কুরআনের বাণী শুনে তৎক্ষণাৎ ঈমানের ঘোষণা দিয়ে দিত। যুগে যুগে ইবলিসের দোসররা সত্যের দীপ্ত শিখা নিভিয়ে দেবার জন্য চেষ্টার কমতি করেনি। পূর্বসূরিদের মতো বর্তমানের অন্ধকারের পথযাত্রীরাও পিছিয়ে নেই তাতে। মুসলিম জাতিকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দেউলিয়া করে সত্যের আলো নিভিয়ে দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারাও। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মনে গেঁথে দিচ্ছে তাদের ইসলামবিদ্বেষের বিষবাষ্প। আল্লাহ তাআলা এই সাহিত্যকেই তাদের জন্য বুমেরাং করে দিলেন। এক ঝাঁক তরুণ প্রাণ সাহিত্যের মাধ্যমেই সত্যের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করল। সত্যের দীপ্ত শিখা জ্বালাবার শপথ নিয়ে সেই কাফেলায় যুক্ত হলো সন্দীপন। আত্ম—উন্নয়নমূলক, অনুপ্রেরণামূলক, ইতিহাস ও সংশয় নিরসন ইত্যাদি সামসময়িক বিভিন্ন টপিকসহ আমরা কাজ করে যাচ্ছি কুরআন, হাদীস, তাফসির ও সালাফদের বিভিন্ন খিদমত বাংলাভাষী মুসলিমদের হাতে পৌঁছে দিতে। পরিবার ও সন্তান প্রতিপালন সম্পর্কিত জীবনঘনিষ্ঠ বই নিয়েও কাজ করে যাচ্ছি আমরা। শিশুতোষ সাহিত্য নিয়ে সন্দীপনের রয়েছে অনন্য পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা। বাংলাভাষী মুসলিমদের কল্যাণে সন্দীপন প্রকাশন—এর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। প্রিয় পাঠক, সত্যের দীপ্ত শিখা জ্বালাবার এই সফরে স্বাগত আপনাকেও। সন্দীপনের সাথেই থাকুন