বছর ঘুরে আবারও আমাদের দুয়ারে এসে পৌঁছেছে শ্রেষ্ঠ মাস—মহিমান্বিত রমাদান। রমাদানকে ফলপ্রসূ করতে পরিকল্পনার বিকল্প নেই। কারণ যে কোনো কাজ পরিকল্পিত হলে তা হয় সুচারু ও সফল। অথচ দুঃখজনকভাবে, রমাদানের মতো সীমাহীন রহমত ও বরকতময় মাসটিই আমাদের কেটে যায় পরিকল্পনাহীনভাবে। এর ফলে প্রত্যাশিত মাত্রায় আমল করা সম্ভব হয় না, আমরা বঞ্চিত হই রমাদানের বহু কল্যাণ থেকে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রমাদানকে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে সার্থক করা, আমল দিয়ে সাজানো এবং জান্নাতের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা উপহার দিচ্ছি ‘রমাদান প্ল্যানার’।
এবার প্রকাশিত হচ্ছে রমাদান প্ল্যানারের ষষ্ঠ সংস্করণ। পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর চেয়ে অধিকতর পরিমার্জিত, সমৃদ্ধ ও দ্বিগুণ কলেবরের এই প্ল্যানারে এবার থাকছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নতুন সব কন্টেন্ট। এতে প্রতিদিনের জন্য রয়েছে একটি আয়াত, একটি হাদীস, একটি দু‘আ, একটি মাসআলা, একটি অবহেলিত সুন্নাহ এবং ঈমানের দুই থেকে তিনটি শাখার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। প্রতিদিন এগুলো মুখস্থ এবং আমল করার মাধ্যমে রমাদানের ত্রিশ দিনে আপনি আত্মস্থ করতে পারবেন ৩০টি আয়াত, ৩০টি হাদীস, ৩০টি দু‘আ, ৩০টি মাসআলা, ৩০টি অবহেলিত সুন্নাহ এবং ঈমানের ৭৭টি শাখা।
আপনার ইবাদতকে সুশৃঙ্খল করতে এতে আরও যুক্ত করা হয়েছে সালাত ট্র্যাকার, কুরআন ট্র্যাকার এবং দৈনিক চেকলিস্ট। এই মূল্যবান জ্ঞান ও আমলসমূহ কেবল রমাদানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা আপনার সারাজীবনের পাথেয় হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।
শায়খ আহমাদুল্লাহ
১৫ ডিসেম্বর ১৯৮১ সালে লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণকারী শায়খ আহমাদুল্লাহ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার, বিদগ্ধ আলোচক, লেখক ও খতিব, যিনি দারুল উলূম হাটহাজারীসহ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে জাতীয় মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান অর্জনের মাধ্যমে পড়াশোনা ও ইফতা সম্পন্ন করেছেন। মিরপুরে শিক্ষকতা ও খতিবের দায়িত্ব পালনের পর আরবী ভাষায় বিশেষ দক্ষতার কারণে তিনি সৌদি আরবের দাম্মামে দীর্ঘ প্রায় দশ বছর দাঈ ও অনুবাদক হিসেবে কাজ করেন এবং দেশে ফিরে শিক্ষা, সেবা ও দাওয়াহ—এই তিন বিভাগে কাজের লক্ষ্যে স্বনামধন্য ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। টিভি চ্যানেল ও উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে সাবলীল আলোচনার পাশাপাশি তিনি লেখালেখিতেও অত্যন্ত সক্রিয়; তাঁর রচিত ও সম্পাদিত ‘সকাল সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর’, ‘রমাদান প্ল্যানার’, ‘উমরাহ কীভাবে করবেন’ এবং ‘তারাবীহর সালাতে কুরআনের বার্তা’সহ অসংখ্য বই, পুস্তিকা ও প্রবন্ধ দেশে-বিদেশে পাঠকমহলে বিপুল সাড়া জাগিয়েছে। বহুমুখী সেবামূলক ও গবেষণাধর্মী কাজের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করা এই গুণী আলেম ইতোমধ্যেই এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার দুই ডজনেরও বেশি দেশে আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ইসলামের প্রসারে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার, আলোচক, লেখক এবং সমাজসেবক। তিনি সুপরিচিত দাতব্য সংস্থা 'আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, যার মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নানামুখী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে অত্যন্ত মার্জিত, সাবলীল ও পরিমিত আলোচনার জন্য তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত। সৌদি আরবের একটি ইসলামিক সেন্টারে দীর্ঘ সময় দাঈ হিসেবে কাজ করার পর তিনি বর্তমানে দেশে ফিরে এসে ইসলামি দাওয়াহ, লেখালেখি, বিভিন্ন প্রশ্নের ফতোয়া প্রদান এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।ে।
আস সুন্নাহ ফাউণ্ডেশন
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন হলো শায়খ আহমাদুল্লাহ কর্তৃক ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকার নিবন্ধিত ও আইএসও (ISO) সনদপ্রাপ্ত একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং সেবামূলক সংস্থা, যা মূলত শিক্ষা, দাওয়াহ ও মানবকল্যাণ—এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে। কোরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনদের আদর্শে অনুপ্রাণিত এই প্রতিষ্ঠানটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চরমপন্থা পরিহার করে একটি আদর্শ কল্যাণ-সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছে। সাময়িক ত্রাণের চেয়ে টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর এক লক্ষ বেকার যুবক ও সুবিধাবঞ্চিত নারীকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। জনগণের অনুদান ও জাকাতকে মহান আল্লাহর 'আমানত' হিসেবে গ্রহণ করে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মিত অডিটের মাধ্যমে এতিম, বিধবা ও দুর্যোগ-আক্রান্ত মানুষের সেবায় ফাউন্ডেশনটি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।