30% ছাড়
নদী যেমন তার উৎসমুখ থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে মেশে, একটি জাতির সাহিত্যও তেমনি সহস্রাব্দের বিবর্তন আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার স্বকীয় পরিচয় নির্মাণ করে। কীর্তিমান মুসলমানদের হাতে রচিত সাহিত্য, যাকে আমরা বলছি মুসলিম সাহিত্য, সেই আবহমান বাংলা সাহিত্যেরই এক বলিষ্ঠ ধারা। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে মুসলিম কবি-সাহিত্যিক-চিন্তাবিদগণ তাঁদের মেধা ও মনন দিয়ে এই ভাষা-সাহিত্যকে যে উচ্চতা দান করেছেন, আমরা সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। তাঁদের দেখানো ও শেখানো পথেই আমরা এগিয়ে চলেছি। চর্চা করছি বাংলাভাষা।‘কালান্তর’ ম্যাগাজিনের এবারের বিষয়বস্তু ‘বাংলা মুসলিম সাহিত্য’। এ সংখ্যাটি আমাদের ভাষা-সাহিত্যের সুদীর্ঘ ও গৌরবময় বিকাশ ও প্রকৃষ্টের একটি পরিক্রমকে ধারণ করবার চেষ্টা করেছে। আলোকপাত করতে চেষ্টা করেছে বাংলা মুসলিম সাহিত্যের তাত্ত্বিক ও আদর্শিক দিকগুলোর ওপরও। বিশেষ করে কুরআনের শৈল্পিক উপমা, অলংকার ও নন্দনতত্ত্ব কীভাবে আমাদের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং আধুনিক কালে আমাদের সাহিত্যের স্বরূপ কী হওয়া উচিত, এই সংখ্যায় সেই গূঢ় জিজ্ঞাসারও উত্তর খোঁজা হয়েছে।
মধ্যযুগের শাহ মুহম্মদ সগীর, আলাওল, আব্দুল হাকিমদের থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের মীর মশাররফ হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম, আল মাহমুদ প্রমুখের কলমে মুসলিম মানস কীভাবে ধরা পড়েছে, তার একটি চিত্র এই সংখ্যায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মোটের ওপর সংখ্যাটি বলা চলে ঐতিহ্য অভিসারী, নিজের শিকড় খুঁজে পেতে সে মরিয়া।
তাই বলে বর্তমানকে যে আমরা খাটো করে দেখতে চেয়েছি তা-ও নয়। বরং সাহিত্যচর্চায় বহমান কালের অঙ্গুলিসংকেত ঠিক কোনদিকে, তা নির্ভুলভাবে মর্মস্থ করবার অভিপ্রায় থেকেই এ কিঞ্চিৎ খোঁড়াখুঁড়ি। বড়দের পাশাপাশি একঝাঁক প্রতিশ্রুতিশীল নবীন লেখকদেরও আমরা শামিল করেছি। এই নবীনেরা সাহিত্যে তাঁদের স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের কথা বলেছেন এবং মাদ্রাসাশিক্ষা ও আধুনিক সাহিত্যের মাঝখানে এতকাল যে একটি দেয়াল দাঁড়িয়ে ছিল, সেটি ধসে পড়ার শব্দ শুনিয়েছেন।
লেখকের বিস্তারিত পরিচিতি পাওয়া যায়নি।
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ দিন!