ভূমিকা:
ঈমানের ছয়টি রুকুনের মধ্যে তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ষষ্ঠ হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাক্বদীরের প্রতি ঈমান শুধু একটি রুকুন নয়, বরং এটি তাওহীদের কেন্দ্রবিন্দু। আল্লাহর নির্ধারিত ফায়সালা ও তাক্বদীরকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমে বান্দার ঈমান পূর্ণতা লাভ করে এবং তার ইবাদত সুসংহত হয়।
তাক্বদীরের সংজ্ঞা ও তাৎপর্য:
তাক্বদীর অর্থ আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা ঘটবে তার সবকিছুই পূর্বেই নির্ধারণ করেছেন। বান্দার জীবনে সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি, জীবন-মৃত্যু—সবই আল্লাহর তাক্বদীরের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি বান্দাকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে শেখায়।
- তাক্বদীরের প্রতি ঈমান মানুষকে ধৈর্যশীল করে তোলে।
- এটি বান্দাকে অহংকার থেকে মুক্ত করে, কারণ সে জানে সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে।
তাওহীদের সাথে সম্পর্ক:
তাওহীদ মানে আল্লাহকে একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্বীকার করা। তাক্বদীরের প্রতি ঈমান তাওহীদের বাস্তব রূপ। যখন বান্দা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তার ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না, তখন তার তাওহীদ দৃঢ় হয়।
শরীয়তের হুকুম আহকাম ও তাক্বদীর:
ইসলামী শরীয়তের বিধিবিধান তাক্বদীরের প্রতি ঈমান দিয়ে শুরু হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে।
- ইবাদত, রোজা, নামাজ, হজ—সবই তাক্বদীরের অন্তর্ভুক্ত।
- বান্দা যখন আল্লাহর হুকুম মেনে চলে, তখন সে তাক্বদীরের প্রতি ঈমানের প্রকাশ ঘটায়।
তাক্বদীরের প্রতি ঈমানের সুফল:
-ধৈর্য ও সন্তুষ্টি: বিপদে ধৈর্য ধারণ করা সহজ হয়।
-আত্মবিশ্বাস: বান্দা জানে তার জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ।
-আল্লাহর প্রতি আস্থা: তাক্বদীরের প্রতি ঈমান বান্দাকে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল করে।
-অহংকার থেকে মুক্তি: সাফল্যকে নিজের কৃতিত্ব নয়, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে দেখে।
উপসংহার:
তাক্বদীরের প্রতি ঈমান ইসলামী আকীদার অন্যতম স্তম্ভ। এটি বান্দার ঈমানকে সুদৃঢ় করে, ইবাদতকে অর্থবহ করে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও নির্ভরশীলতা তৈরি করে। তাই তাক্বদীরের প্রতি ঈমান শুধু একটি রুকুন নয়, বরং বান্দার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার মাধ্যম।
الإيمان بالقضاء والقدر
বই: ফায়সালা ও তাকদীরের প্রতি ঈমান
লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আল-হামাদ
শারঈ সম্পাদনা: আল্লামা শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আযীয ইবনে বায রহিমাহুল্লাহ
অনুবাদ : শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী
অনুবাদ: আশরাফুল ইসলাম বিন রেজাউল হক সহযোগী গবেষক, মাকতাবাতুস সুন্নাহ
(অনুবাদ সম্পাদনা মাকতাবাতুস সুন্নাহ গবেষণা পরিষদ)
মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আল-হামাদ
শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-হামাদ হলেন সৌদি আরবের একজন সমসাময়িক বিখ্যাত লেখক, গবেষক এবং ইসলামী আইনবিদ। তিনি বিশেষ করে আকীদা (ইসলামী বিশ্বাস), পারিবারিক জীবন এবং আত্মশুদ্ধি বিষয়ক চমৎকার সব সাহিত্যিক ও তাত্ত্বিক বই রচনার জন্য মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক সমাদৃত।
নিচে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
জন্ম ও পরিচিতি
- জন্ম: তিনি ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩৮৫ হিজরী) সৌদি আরবের রিয়াদ প্রদেশের আল-জুলফী (Al-Zulfi) গভর্নরেটে জন্মগ্রহণ করেন।পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড: তাঁর পিতা ইবরাহীম বিন আহমাদ আল-হামাদ ছিলেন আল-জুলফী অঞ্চলের একজন সুপরিচিত আমীর (প্রশাসক)।
শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন
- শিক্ষা: ড. মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-হামাদ ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আকীদা ও সমসাময়িক ধর্মীয় মতবাদ বিষয়ে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন।
- অধ্যাপনা: তিনি সৌদি আরবের কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (Qassim University) শরীয়াহ ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের 'আকীদা' বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থান ও অবদানতিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম এবং সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতিশাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহ.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছাত্র ছিলেন। শাইখ বিন বাজ তাঁর একাধিক বইয়ের ভূমিকা ও প্রশংসা বাণী লিখে দিয়েছেন। তিনি রেডিও, টেলিভিশন এবং বিশেষ করে 'ইযায়াতুল কুরআনুল কারীম' (কুরআন রেডিও)-এ নিয়মিত ইসলামী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা পেশ করে থাকেন।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)
শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন অবিসংবাদিত ইসলামি স্কলার, সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিভাবক। তিনি তাঁর সুদীর্ঘ জীবনে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে ইসলামি শিক্ষার প্রচার, শরিয়াহর সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর নানাবিধ জটিল সমস্যার সমাধানে অবিচল ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর প্রখর মেধা, অসামান্য স্মৃতিশক্তি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ইসলামি ইলমের বিভিন্ন শাখায় যে বিশাল অবদান রেখে গেছেন, তা তাঁকে মুসলিম বিশ্বে একটি নির্ভরযোগ্য ও শ্রদ্ধার প্রতীকে পরিণত করেছে। তাঁর অমায়িক ব্যবহার, গভীর তাকওয়া এবং সত্যের পথে আপসহীন থাকার আদর্শ আজও তাঁর রচিত অসংখ্য গ্রন্থ ও ফতোয়ার মাধ্যমে জ্ঞানপিপাসুদের জন্য পাথেয় হয়ে আছে।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত ইসলামি আইনজ্ঞ, সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আলেম। তিনি তাঁর জীবনব্যাপী কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ প্রচার, ইসলামি শিক্ষার প্রসার এবং ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। জ্ঞানপিপাসু ও আমলপ্রিয় এই মণীষী তাঁর বিনয়, ধৈর্য এবং অনড় নীতিমালার জন্য মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র, যা তাঁকে সমসাময়িক ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শাইখ আবদুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী
শাইখ আবদুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত, গবেষক এবং দা’ঈ, যিনি সৌদি আরবের মদিনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি মূলত আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা ও সালাফি মানহাজ অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহর বাণী প্রচারের জন্য সুপরিচিত। একজন সফল লেখক হিসেবে তিনি ‘মুখতাসার যাদুল মাআদ’ ‘প্রশ্নোত্তরে চার মাযহাবের আকিদাহ’, ‘জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ৬০ সাহাবী’ এবং ‘কারবালার প্রকৃত ঘটনা’ সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক বই রচনা ও অনুবাদ করেছেন। সমসাময়িক বিভিন্ন ইসলামিক মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা ও লেখনীর মাধ্যমে বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত।
দৃত।
মাকতাবাতুস সুন্নাহ রাজশাহী
প্রকাশনীর বিস্তারিত পরিচিতি পাওয়া যায়নি।