আমরা গোনাহ থেকে বাঁচতে চাই। পাপমুক্ত একটি জীবন গড়তে চাই। অশ্লীলতার ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে চাই। আল্লাহর বিধান আঁকড়ে ধরে, ঈমানের আলোয় সজীব ও সুন্দর একটি জীবন গঠন করতে চাই। এই চাওয়াগুলো কোনো মন্দ চাওয়া নয়। বরং এই চাওয়াগুলোই প্রমাণ করে—আপনার ভেতরে সেই অমূল্য ঈমান এখনো বেঁচে আছে।
আমরা ফিরে আসতে চাই। অন্ধকার থেকে আলোতে নিজেকে তুলে আনতে চাই। কিন্তু বাস্তবতা হলো—আমরখ চাইলেও পারছি না। মনে হয়, যেন চারপাশে এক ধরনের অদৃশ্য বিষ ছড়িয়ে আছে। সেই বিষ আমাদের চিন্তা, দৃষ্টি আর মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা নিজেদের গোনাহ আর পাপাচার থেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখতে পারছি না।
এই বিষাক্ত উপকরণটা কী?
এটা আর কিছু নয়; এটা হলো নীরব মহামারী সেই ধ্বংসাত্মক অশ্লীলতা।
এই অশ্লীলতার কারণেই আজ আমরা চোখ থাকতেও অন্ধ। বিবেক আছে, কিন্তু তা যেন নিস্তব্ধ। মন আছে, অথচ অনুভূতি নেই। হৃদয় আছে, কিন্তু তাতে আর কাঁপন ধরে না। অশ্লীলতার প্রভাবেই আমাদের জীবনে আজ এত গোনাহ, এত পাপ, এত মানসিক যন্ত্রণা।
চারদিকে তাকালে দেখা যায়—অশ্লীলতার দাপট। অশ্লীল সমাজ, অশ্লীল কনটেন্ট, অশ্লীল ভিডিও আর অশ্লীল কর্মকাণ্ডে চারপাশ যেন বিষিয়ে গেছে। এই বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যেই আমরা প্রতিদিন শ্বাস নিচ্ছি।
অশ্লীলতার ধ্বংসাত্মক প্রভাব আমাদের চারপাশকে অন্ধকার করে দিয়েছে। একের পর এক পাপের দরজা খুলে দিয়েছে। চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গা নেই। আশ্রয় নেওয়ার মতো নিরাপদ কোনো কোণও যেন আর অবশিষ্ট নেই। মনে হয়, যেদিকেই তাকাই, সেদিকেই অশ্লীলতার ছয়লাব।
আজ এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে এই অশ্লীলতা ঢুকেনি। এটি এখন আর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি এক ভয়াবহ সামাজিক মহামারীতে রূপ নিয়েছে। যে মহামারী শুধু শরীরকে নয়; মন, বিবেক আর আত্মাকেও গ্রাস করছে। এর ফলে আত্মা নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে, আর মানুষের পাপের মাত্রা দিনকে দিন বাড়তেই থাকছে। এতটাই বাড়ছে যে, মানুষ এখন আর পাপকেও পাপ বলে মনে করছে না।
এই অশ্লীলতা আসলে কী?
কীভাবে এটি সমাজে ঢুকে পড়ল?
এর ক্ষতি কতটা গভীর ও ভয়াবহ?
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এ থেকে বাঁচার পথই বা কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতেই পড়ুন—”অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লড়াই”।
মাহমুদ বিন নূর
মাহমুদ বিন নূর: তরুণ আলেম, লেখক ও গবেষক মাহমুদ বিন নূর (জন্ম ১৪ নভেম্বর, ১৯৯৭) একজন তরুণ আলেম, লেখক ও গবেষক। সৃজনশীল ও মননশীল প্রতিভার অধিকারী এই লেখক হবিগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কওমি মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করেন এবং দীর্ঘ সময় ঢাকার প্রখ্যাত আলেমদের সান্নিধ্যে ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি হাদিসে নববীর ইজাজাহ লাভ করেন এবং লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'নফসের বিরুদ্ধে লড়াই', 'শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই', 'অলসতার বিরুদ্ধে লড়াই', 'আমার শত্রু আমি', 'স্বপ্ন ও স্বপ্নের ব্যাখ্যা', 'জীবনের আয়না' এবং 'প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি'। তাঁর বইগুলোর মধ্যে 'নফসের বিরুদ্ধে লড়াই', 'শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই' ও 'আমার শত্রু আমি' বেস্ট সেলার তালিকায় স্থান পেয়েছে। মৌলিক রচনার পাশাপাশি তিনি সম্পাদনার কাজেও যুক্ত আছেন।
রাইয়ান প্রকাশন