আমরা তখন টগবগে যুবক। থাকতাম নবী (ﷺ)-এর কাছে। কুরআন শেখার আগে আমরা ঈমান শিখে নিলাম। এরপর শিখলাম কুরআন। এতে আমাদের ঈমান বেড়ে গেল।’ কথাগুলো বলেছেন সাহাবী জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু (ইবনু মাজাহ, হা/৬১) উম্মাহর শ্রেষ্ঠ মানুষদের শেখার শুরুটা ছিল ঈমান।
ঈমান,আক্বীদাহ, তাওহীদ সকল শিক্ষার মূল। ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডির মধ্যে আছে কিনা তা নিরূপিত হয় তার ইমান-আক্বীদাহর মাধ্যমে।
প্রশ্নোত্তরে আক্বীদাহ ও মানহাজ বইটি সেই শিক্ষারই অংশ হিসেবে পাঠকের জন্য প্রকাশিত হয়েছে।
শাইখ সালেহ ইবন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)
আল্লামা ড. শাইখ সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)
সৌদি আরবের আল-কাসীম অঞ্চলের বুরায়দাহ শহরের নিকটবর্তী শামাসিয়া এলাকার অধিবাসী। তিনি ১৯৩৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর (১ রজব ১৩৫৪ হিজরী) জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সেই পিতৃহারা হয়ে পরিবারের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে কুরআন ও কিরাআতের মূলনীতি শিক্ষা করেন। পরবর্তীতে শামাসিয়া ও বুরায়দাহর বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াশোনা করে ১৩৮১ হিজরীতে রিয়াদের কুল্লিয়া শরীয়্যা (শরীয়্যা কলেজ) থেকে স্নাতক ও পরবর্তীতে ফিকহ বিষয়ে এম.এ এবং পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি রিয়াদের ইসলামিক ইনস্টিটিউট, শরীয়্যা কলেজ ও বিচার বিষয়ক উচ্চতর ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির (اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء) সদস্য এবং হাইয়াতুল কিবারিল উলামা (هيئة كبار العلماء)-এর অন্যতম সদস্য।
তিনি রাবেতার ইসলামী ফিকহ একাডেমি, হজ্জ মৌসুমে দাঈ কমিটি, ও রিয়াদের মালায মসজিদের ইমাম ও খতীব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। রেডিও প্রোগ্রাম “নূর আলা দার্ব”-এ নিয়মিতভাবে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বহু গবেষণাধর্মী রচনা, ফতোয়া, প্রবন্ধ ও পুস্তক প্রণয়ন করেছেন এবং বহু ছাত্রের মাস্টার্স ও পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা বাংলাদেশের একজন পরিচিত ইসলামি লেখক, অনুবাদক ও গবেষক, যিনি মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজ বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে তুলে ধরার জন্য সমাদৃত। তিনি সালাফদের রচিত ধ্রুপদী ইসলামি গ্রন্থগুলো, বিশেষ করে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু বাকর আল-হুমাইদির "উসুলুস সুন্নাহ"-এর মতো বই অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় অনুবাদ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—আকিদার মতো জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে কুরআন, সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তী ইমামদের অকাট্য দলিলের সাহায্যে সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা। বর্তমান সময়ের নানা ধর্মীয় বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে সতর্ক রাখতে এবং বিশুদ্ধ ইসলামি বিশ্বাসের শেকড় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানে তাঁর এই গবেষণামূলক ও অনুবাদমূলক কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী বর্তমানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং নির্ভরযোগ্য প্রকাশনার জগতে একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে ২০১২ সাল থেকে একদল নিষ্ঠাবান দ্বীনপ্রেমী ব্যক্তির নিরলস ত্যাগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আব্দুল ওয়াহীদ বিন ইউনুস-এর সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত কুরআন, হাদীস, সীরাত, আকীদা এবং ইসলামি জীবনদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রামাণ্য গ্রন্থ প্রকাশ ও সংরক্ষণে নিয়োজিত। আমাদের রয়েছে স্বতন্ত্র গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ, যেখানে প্রাচীন ও আধুনিক জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার সমন্বয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আমাদের সমৃদ্ধ বিক্রয় বিভাগে সালাফি মানহাজভিত্তিক সহীহ আকীদা-নির্ভর গ্রন্থাবলি এবং কওমী মাদরাসার সিলেবাসভুক্ত মূল আরবি ইসলামি কিতাবসমূহের এক বিশাল ও নির্ভরযোগ্য সংগ্রহ রয়েছে, যা পাঠকদের জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে এবং জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোকিত করতে নিরন্তর সহায়তা করে যাচ্ছে। বর্তমানে ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী এর ৩ টি অফলাইন শাখা রয়েছে যার প্রধান শাখা রাজশাহীর প্রানকেন্দ্র রানীবাজার ও ২য় শাখা সাহেববাজারে অবস্থিত ও ৩য় শাখা রাজধানী ঢাকা সদরের বইয়ের রাজধানী বাংলাবাজারে অবস্থিত।