হোম / লেখকসমূহ / শায়খ ওয়ালীউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ
1টি বই — পাতা 1/1
শায়খ ওয়ালীউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ
লেখক
1
মোট বই
1
এই পাতায়
1/1
পাতা
লেখক সম্পর্কে

শায়খ ওয়ালীউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-খতিব আত-তাবরি (র.) হলেন ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ এবং শিক্ষক। তার ব্যক্তিত্ব, পাণ্ডিত্য এবং দূরদর্শিতা তাকে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে। নিচে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. নাম, লকব ও বংশ পরিচয়

তার মূল নাম মুহাম্মদ, উপনাম (কুনিয়াত) ‘আবু আবদুল্লাহ’ এবং লকব বা উপাধি হলো ‘ওয়ালীউদ্দিন’ (অর্থ: ধর্মের অভিভাবক)। তবে বিশ্বজুড়ে আল-খতিব আত-তাবর নামে সমধিক পরিচিত। তার বংশের বা তার নামের সাথে ‘খতিব’ যুক্ত থাকার কারণ হলো, তিনি অথবা তার পূর্বপুরুষরা তৎকালীন ঐতিহাসিক জামে মসজিদে জুমার খুতবা প্রদান করতেন।

২. জন্ম ও উৎপত্তি

ইতিহাসে তার সঠিক জন্ম সাল নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও তিনি সপ্তম হিজরির শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেন এবং অষ্টম হিজরির প্রথমার্ধে তার জ্ঞান ছড়িয়ে দেন। নামের শেষে ‘তাবরিজি’ বা ‘তিবরিযী’ নিসবত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তিনি তৎকালীন পারস্যের (বর্তমইরান) বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নগরী তাবরিজ-এর অধিবাসী ছিলেন। এই অঞ্চলটি বহু যুগ ধরে অসংখ্য প্রখ্যাত মুসলিম স্কলার ও বিজ্ঞানীর জন্ম দিয়েছে।

৩. শিক্ষাজীবন ও পাণ্ডিত্য

তিনি তৎকালীন বিখ্যাত আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে হাদিস, ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র), বালাগাত (অলঙ্কার শাস্ত্র) এবং ফাসাহাত (বাগ্মিতা) বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রে তার গভীরতা ছিল অসাধারণ। তিনি দীর্ঘকাল বাগদাদের বিখ্যাতনিজামিয়া মাদরাসায় গ্রন্থগারিক ও শিক্ষক হিসেবে দ্বীনি খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি দামেস্ক এবং মিসরেও সফর করেন এবং জীবনের শেষভাগে পুনরায় বাগদাদে ফিরে আসেন।

৪. প্রধান অমর কীর্তি: মিশকাতুল মাসাবিহ

তার জীবনের সবচেয়ে বড় ও কালজয়ী অবদান হলো মিশকাতুল মবীহ গ্রন্থটি সংকলন করা।

  • মূল ভিত্তি: পঞ্চম হিজরির প্রখ্যাত ইমাম বগভী (র.) ‘মাসাবিহ আস-সুন্নাহ’ নামে একটি হাদিস গ্রন্থ লিখেছিলেন, যাতে কোনো সনদের সূত্র বা রাবির (হাদিস বর্ণনাকারী) নাম ছিল না।
  • তাবরিজির সংস্কার: খতিব তাবরিজি এই অভাব দূর করার জন্য মূল গ্রন্থের ৪,৪৩৪টি হাদিসের সাথে আরও ১,৫১১টি হাদিস যুক্ত করেন। প্রতিটি হাদিসের রাবির নাম স্পষ্ট করেন এবং হাদিসটি বুখারি, মুসলিম না কি তিরমিজি—কোন মূল গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে দেন।
  • নামকরণ ও বিন্যাস: ‘মিশকাত’ শব্দের অর্থ চেরাগদান বা বাতি রাখার তাক। অর্থাৎ তিনি ইমাম বগভীর প্রদীপগুলোকে (মাসাবিহ) একটি সুন্দর চেরাগদানের (মিশকাত) মধ্যে সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি ৭৩৭ হিজরির জিলহজ মাসের শেষ জুমায় এই মহান গ্রন্থের কাজ সমাপ্ত করেন।

৫. ইন্তেকাল জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পর মহান এই হাদিস বিশারদ ৭৪১ হিজরিতে (১৩৪০ খ্রিস্টাব ইরাকের বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

আজও ভারতীয় উপমহাদেশসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের মাদরাসাগুলোতে উচ্চতর হাদিস শিক্ষার প্রধান পাঠ্যবই হিসেবে তার সংকলিত ‘মিশকাতুল মাসাবিহ’ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়।

সকল লেখক
দামের পরিসর
বিষয়বস্তু
প্রকাশনী
সব ফিল্টার সরান
মিশকাতুল মাছাবীহ (অনুবাদ ও ব্যাখ্যা) – ১ম খণ্ড
মিশকাতুল মাছাবীহ (অনুবাদ ও ব্যাখ্যা) – ১ম খণ্ড

শায়খ ওয়ালীউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ · হাদীস ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ

৳ 600
ফিল্টার
দামের পরিসর
বিষয়বস্তু
প্রকাশনী
সব ফিল্টার সরান
সাহায্য চ্যাট

আসসালামু আলাইকুম! আমি ওয়াহিদীয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরীর সহায়ক। আমি কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?